পর্তুগাল-ইউরোপে অবৈধদের শেষ আশ্রয়স্থল😒
উন্নত জীবনের আশায় প্রতি বছর হাজারও মানুষ পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে! আর ইউরোপে আসা এসব বৈধ এবং অবৈধ অভিবাসীদের পছন্দের তালিকায় বিগত বছর গুলোতে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগাল ছিল সব সময়ই শীর্ষে। তবে ইউরোপে বৈধতা পাওয়ার ক্ষেত্রে পর্তুগাল জেনো অবৈধ অভিবাসীদের শেষ আশ্রয়স্থল।
পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। আর এই এক ভাগ স্থলেই বর্তমান
পৃথিবীতে সমগ্রীক ভাবে প্রায় ৮ বিলিয়নের বেশি মানুষের বসবাস।
স্থল ভাগে ১৯৫টি দেশের মধ্যে কিছু কিছু দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার হার
এতটাই বেশি যে, ঐ সকল দেশের জনসংখ্যার মাথাপিছু আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ
অনেক বেশি। কারণ যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া।
আর তাই মানুষ উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে শিক্ষিত,
অর্ধশিক্ষিত, দক্ষ-অদক্ষ যে যেভাবেই সুযোগ পান, নিরাপদ জীবন এবং স্থায়ীভাবে
বসবাসের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোতে ভিড় করেন প্রতি বছরই।
ইউরোপে আসা এসব বৈধ এবং অবৈধ অভিবাসীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স,
ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালের মোত দেশ গুলো।
অধিকাংশ অভিবাসীরাই ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আবেদন করে সাময়িক সময়ে কিছু
সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য। কিন্তু একটা সময় সে আশার আলো হতাশার বাণী ও শোনায়।
বর্তমানে ফ্রান্সে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বেশির ভাগ নথিগুলোই তারা প্রত্যাখ্যান করছে।
যদিও একালীন কাজের সূত্রে ক্ষেত্র বিশেষে কিছুটা ভিন্ন তা ও রয়েছে দেশটিতে বৈধতা পেতে
তবে দেশটিতে অবৈধ অবস্থায় কাজ পাওয়াটাও একেবারে সহজ কিছু নয়।
ইতালির জর্জা মেলোনি সরকার ক্ষমতায় এসেছে অবৈধ অভিবাসীর প্রবাহ ঠেকানোর
প্রতিস্রুতি দিয়ে। তাছাড়া স্পেনে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা পেতেও রয়েছে বেশ
ঝামেলা। সেদিক থেকে বর্তমানে ইউরোপে সহজ শর্তে কম সময়ে বৈধতা অর্জন করা যায়
এমন দেশ হিসাবে পর্তুগাল বেশ জনপ্রিয়। বলতে গেলে এটিই ইউরোপে থাকা অবৈধ
অভিবাসীদের শেষ আশ্রয়স্থল।
পর্তুগালে প্রবেশ করা একজন অবৈধ অভিবাসীর চেষ্টা থাকলে, দেশটিতে প্রবেশ করার এক
থেকে দুই বছরের মধ্যেই বৈধতা লাভ করে সম্ভব। ফলে ধিরে ধিরে ইউরোপের অন্যান্য
দেশের মতো পর্তুগাল ও অভিবাসীদের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
পর্তুগাল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড বর্ডার সার্ভিস SEF এর করা নিয়মিতকরণের তালিকায় শীর্ষ দ্বিতীয়
তে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দুই হাজার ৪০৫ জন অনিয়মিত
বাংলাদেশি পর্তুগালে পেয়েছেন বৈধতার সুযোগ। এর আগে, গত বছর পর্যন্ত দেশটিতে
বাংলাদেশি নাগরিকদের, বৈধ রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে বসবাসকারী সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার
৪৬৮ জন।
বৈধভাবে পর্তুগালে যে কেউ পাঁচ বছর বসবাস করার পর পাসপোর্ট এবং নাগরিকত্ব লাভের
সুযোগ পাই, যা ইউরোপের অন্যান্য দেশে এত কম সময়ে প্রায় অকল্পনীয়। অন্যদিকে
আবার পাসপোর্ট এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার পর উন্নত জীবনের আশায় স্থায়ীভাবে বসবাসের
জন্য কেউ কেউ স্বপ্নের দেশ আমেরিকা, কানাডা অথবা ইউরোপের উন্নত অন্যানো
দেশগুলোতেও পাড়ি জমান।
আইবেরীয় উপকূলীয় দেশ পর্তুগালে যদিও সহজ শর্তে বৈধতা পাওয়া যায়, তবে ভাষাগত
সমস্যার কারণে কাজ পাওয়াটা কিছুটা কঠিনও বটে।


0 Comments