Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কেন অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করবেন??

 অস্ট্রেলিয়াতে আসার কিছু সুবিধা

দেশ উন্নত হলে তার, সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে সে দেশে বসবাসকারী নাগরিকই, এটাই স্বাভাবিক, এটাই  বাস্তবিক। তবে এক একেটি দেশের রয়েছে এক এক ধরণের সুযোগ সুবিধা! ঠিক তেমনি অস্ট্রেলিয়াতে রয়েছে এমনি কিছু বিশেষ সুযোগ সুবিধা। আর এ সকল সুযোগ সুবিধার মধ্য হতে কিছু বিশেষ সুবিধা উপস্থাপন করা হয়েছে এই লেখাতে...! বিশেষ করে যারা কিনা ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়া হতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাইগ্রেট করতে ইচ্ছুক তাদের অবশ্যই এই লেখাটি মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ পড়া উচিৎ। 


অস্ট্রেলিয়াতে আসার বিশেষ সুবিধা


বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবাঃ


যাইহোক, অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করলে বিশেষ যে কিছু সুবিধা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো-বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা! যদিও ইউরোপ কান্ট্রির বেশির ভাগ দেশই এই সুবিধা দিয়ে থাকে তবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্যও এটি একটি বিশেষ সুবিধা। অস্ট্রেলিয়ান স্থায়ী বাসিন্দাদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা পেতে একটি মেডিকেয়ার সিস্টেমে দেশটির কিছু বিশেষ শর্তাবলী মেনে রেজিট্রেশনের মাধমে এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। 


যে কোনো অঞ্চলে বসবাসঃ


অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করলে দ্বিতীয় বিশেষ যে সুবিধা টি পাবেন, আর সেটি হলো- কোন বাধা ছাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার যে কোনো অঞ্চলে বসবাস করতে পারবেন। যেমন কানাডার ক্ষেত্রে কিন্তু তা সম্ভব নয়। কানাডার যে প্ৰভেনসে  আপনি যাবেন ঠিক সেখানেই আপনাকে স্থায়ী ভাবে বসবাসের অনুমতি দিবে! এর বাহিরে কানাডার অন্য প্ৰভেনসে বসবাসের জন্য নতুন করে ইমিগ্রশনের  অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই।


প্রিয় পাঠ্যক, অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে আপনাদের একটি মজার তথ্য দিয়ে রাখি! আর তথ্য টি হলো অস্ট্রেলিয়ায় এত বেশি সমুদ্র সৈকত রয়েছে যে আপনি যদি প্রতিদিন একটি করে নতুন সমুদ্র সৈকতে ভ্রমনে যান তারপরও সেগুলি দেখে শেষ করতে  আপনার সময় লাগবে কমপক্ষে 27 বছর। 


অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সৈকত


নিরাপদ পরিবেশঃ


এরপরেই যে সুবিধা টি রয়েছে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করলে, আর সেটি হলো- পরিবারের জন্য নিরাপদ পরিবেশ। অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়ান স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিক হয়ে যায়। ফলে সে শিশু সন্তানটি পরবর্তীতে দেশটির সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে।


স্টাডি ঋণ অ্যাক্সেসঃ


বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করলে অন্যতম আরেকটি সুবিধা হলো- স্টাডি ঋণ অ্যাক্সেস! অস্ট্রেলিয়ান স্থায়ী বাসিন্দারা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পাবলিক প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের জন্য, উচ্চ শিক্ষা ঋণ প্রোগ্রাম যা মূলত অস্ট্রেলিয়াতে HELP নামে পরিচিত, সেই প্রোগ্রামটির মাধ্যমে, প্রয়োজনীয় তহবিল ঋণ করতে পারে। তবে এই ঋণের অর্থ তখনি ফেরত দিতে হবে যখন কিনা ঐ শিক্ষার্থী  শিক্ষা জীবন শেষ করে, চাকুরী জীবনে অস্ট্রেলিয়ান 46620 ডলার আর্ন করতে পারবে। 


বাড়ি ক্রয়ের অনুদানঃ


এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করলে ৫ম তম বিশেষ যে সুবিধা টি পাবেন, আর সেটি হলো-বাড়ি ক্রয়ের অনুদান। বলা চলে অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করার সব থেকে বড় সুবিধার এটি একটি। যেখানে অন্যান্ন দেশে একটি নতুন স্থায়ী জীবন শুরু করা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার, সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার যদি কোনো ব্যক্তি একটি বাড়ি কিনতে বা তৈরি করতে চায় তাহলে তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকার হতে দশ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদান পেতে পারেন! তবে তার জন্য অবশ্যই মোট বাজেট হতে হবে অস্ট্রেলিয়ান ডলার 7 লক্ষ 50 হাজার বা তার কম। 


সেন্টারলিংক ব্যবস্থাঃ


বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করলে আরো একটি বিশেষ সুবিধা হলো- অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য একটি সামাজিক কল্যাণ মূলক সংগঠন, সেন্টারলিংক ব্যবস্থা। এটি একটি অনলাইন ভিত্তিক অত্যন্ত সহজ ও দক্ষ সিস্টেম। যা অনলাইন সিস্টেমের মাধমে লোকেদের বেকারত্ব, শিক্ষা, অসুস্থতা এবং শিশু যত্নের জন্য সাহায্য চাওয়া ও অনুদান পাওয়া যায়৷


ভিন্ন ধরণের ভিসাঃ


অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করলে ৭ম ও মজার যে সুবিধাটি আপনি পাবেন, আর সেটি হলো- বিভিন্ন ধরণের ভিসা। অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন ধরনের ভিসা অফার করে যার জন্য যে কোনো ব্যক্তিই অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করতে যোগ্য হতে পারে। 


এ সকল বিভিন্ন ধরণের ভিসার মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি ভিসা, যদি আপনি বিবাহিত হয়ে থাকেন তাহলে স্পাউস স্পন্সর এর মাধমে, বা বিয়ে করার পরিকল্পনা করে থাকলে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকে বিয়ে করার মাধ্যমে, অথবা একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্কে গড়ে স্পন্সর শিপ পাওয়ার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করতে পারবেন সহজেই। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু মাত্র স্পন্সরকে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তিনি আপনার পৃষ্ঠপোষক হবেন দুই বছরের জন্য।


অস্ট্রেলিয়াতে আসতে অন্যানো ভিসার মধ্যে আছে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা, বিজনেজ ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং ট্যাম্পোরারি ওর্য়াকিং ভিসা ইত্যাদি।



জলবায়ু:

অস্ট্রেলিয়ার বৈচিত্র্যময় জলবায়ু আপনাকে বিস্মিত করবে। এটিতে অন্যান্য ল্যান্ডস্কেপগুলির মধ্যে রেইনফরেস্ট, মরুভূমি, পর্বত এবং সৈকত রয়েছে। এই বৈচিত্র্যের অর্থ আপনি এমন একটি অঞ্চল খুঁজে পেতে পারেন যা আপনার জলবায়ু পছন্দ এবং স্বাদ অনুসারে হবে। যারা রোদ পছন্দ করেন, অস্ট্রেলিয়ায় বছরে 3000 ঘণ্টার বেশি সূর্যালোক থাকে যা অসাধারণ। এটি অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের মধ্যে কয়লা, সোনা এবং লোহা সহ প্রাকৃতিক সম্পদ থাকার জন্যও গর্বিত। অস্ট্রেলিয়ার 7.692 মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের একটি বিস্তীর্ণ ভূমি এলাকা রয়েছে, যা ক্যাঙ্গারু, ডিঙ্গো এবং প্লাটিপাসের মতো অসংখ্য বন্যপ্রাণী প্রজাতির আবাসস্থল প্রদান করে।


অস্ট্রেলিয়ার রেইনফরেস্ট


কম অপরাধ হার:


অস্ট্রেলিয়ায় আসার অন্যান্য সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল দেশটির কম অপরাধের হার, এটিকে বসবাসের জন্য একটি আদর্শ জায়গা করে তুলেছে। যাইহোক, গ্লোবাল পিস ইনডেক্স দ্বারা রিপোর্ট করা হয়েছে, কোন দেশগুলি সবচেয়ে নিরাপদ তা নির্ধারণ করার জন্য একটি বার্ষিক র‌্যাঙ্কিং, অস্ট্রেলিয়া 2020 সালের জন্য 163টি দেশের মধ্যে 13 তম স্থানে ছিল। যেখানে এর সিডনি এবং মেলবোর্নের মতো শহরগুলি অর্থনৈতিক বুদ্ধিমত্তা ইউনিট দ্বারা নিরাপদ শহর সূচক 2021-এ বিশ্বের 4 র্থ এবং 8 তম নিরাপদ শহর হিসাবে স্থান পেয়েছে।


মেলবোর্ন

প্রিয় পাঠ্যক, এই দেশে আসলে যে শুধুই সুবিধা পাবেন তা কিন্তু নয়! সুবিধা গুলির পাশাপাশি বেশ কিছু অসুবিধাও কিন্তু রয়েছে! তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো- ব্যয়বহুল জীবনযাত্রাঃ অস্ট্রেলিয়া জীবনযাত্রার উচ্চ মানের গর্ব করতে পারে, তবে এটি একটি মূল্যে আসে। একজন গড় আয় উপার্জনকারীর জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত উচ্চ, এটিকে বসবাসের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশগুলির মধ্যে একটি হিসাবে স্থান দেওয়া হয়েছে৷ এই খরচ বাসস্থান এবং পরিবহনের আকাশছোঁয়া খরচ যোগ করতে পারে৷ একটি গড় জীবনযাত্রার খরচ 800 থেকে 1,000 AUD এর মধ্যে পড়ে, ভাড়া চার্জ ব্যতীত। খাদ্য খরচ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং দর্শনার্থীরা অতিরিক্ত দাম দেখে হতবাক হতে পারে। স্থানীয় উৎপাদনের উচ্চ খরচের কারণে বেশিরভাগ অটোমোবাইল দেশে আমদানি করা হয়, যার ফলে ক্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের উচ্চ খরচ হয়।


যাইহোক প্রিয় পাঠ্যক, অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে একটি মজবুত অর্থনীতি, যা শ্রমের চাহিদার উপর নির্ভরশীল। আর এটি মূলত সম্ভব হয়েছে দেশটির সু-দক্ষ শাসনের কারণে। তো  আপনি অস্ট্রেলিয়ান অভিবাসনের জন্য যোগ্য কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হতে পারে অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেট করার আপনার বাস্তবিক স্বপ্নটি।


Post a Comment

0 Comments