অস্ট্রেলিয়া আসার পর আয় করতে যা জানা থাকা প্রয়োজন
অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর ১৩তম সম্পদশালী দেশ এবং আয়তনের দিক থেকে ষষ্ঠ। তবে দেশটির জনসংখ্যা বলা চলে একেবারেই কম, ২০২১ সালের তথ্য মতে মাত্র আড়াই কোটি জনসংখ্যার বসবাস পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম এই দেশে! আর এই জনসংখ্যার বেশির ভাগই বসবাস করে দেশটির শহর অঞ্চলে, বিশেষ করে সিডনি ও মেলবর্নে। অস্ট্রেলিয়ার মোট আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা এতটায় কম যে এর প্রতি বর্গকিলোমিটারে মাত্র তিনজন মানুষের বসবাস। যেখানে আমাদের দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের বসবাস।
যাইহোক, দেশটিতে বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিকের বেশ অভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে করোনা মহামারীর পরে, আর এই শ্রমিক ঘাটতি পূরণের লক্ষে অলরেডি দেশটির সরকার ইমিগ্রেশন শর্ত শিথিল করেছে, যা চ্যানেলে থাকা ভিডিও তে উল্লেখ করা হয়েছে। তো এই নিবন্ধনে আজ আমরা জানবো একজন বাঙ্গালি হিসাবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে আসার পর কোন কাজের দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই অধিক টাকা ইনকাম করা যায় বা অন্যানো দেশের অভিবাসীরা অস্ট্রেলিয়াতে আসার পর কোন কাজের দক্ষতার উপর ডিপেন্ড করে অর্থ ইনকাম করছে। এছাড়াও আরো বিশেষ কিছু তথ্য থাকছে এই লেখাতে।
অস্ট্রেলিয়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ব্যাপক। যে চাহিদা পূরণ করছেন ভারত, চীন,ও শ্রীলঙ্কা সহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অভিবাসীরা। দেশটির বেশির ভাগ শহরের উবার, ট্যাক্সি বা কারচালক ভারতীয়। বিশেষ করে পাঞ্জাবি। এই শহরের প্রধান গণপরিবহন ট্রান্সলিংকের ট্রেন ও বাসচালকের অনেকেই ভারতীয়। অনেক ক্ষেত্রে আবার রয়েছে ভারতীয় নারীরা। এ ছাড়া ভারতীয় এখানে রয়েছে নানা ধরনের ব্যবসা। আছে প্রচুর রেস্তোরাঁ ও। এক জরিপে দেখা গেছে, ভারতীয়রা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অভিবাসী জনগোষ্ঠী, যাঁদের সংখ্যা ক্রমশঃই বাড়ছে। অভিবাসীর দিক থেকে প্রথম অবস্থানে আছেন যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরা।
যেখানে পুরো অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসিদের বসবাস আনুমানি ৮০ হাজারের মত!যার মধ্যে একটি বড় অংশ এই দেশেটিতে পড়াশোনার জন্য অর্থাৎ স্টুডেন্ট ভিসায় এসেছেন এবং পরবর্তীতে দেশটির অভিবাসী হয়ে স্থায়ীভাবে থেকে গেছে। এই সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়ছে।
তবে দুঃখের বিষয় হল, এ দেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে বা শ্রমিক হিসেবে বাঙালিদের খুব কমই আসতে দেখা যায়।যেখানে বর্তমান সময়ে অস্ট্রেলিয়াতে আসতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া পূর্বে তুলনায় অনেকটায় সহজ, সেখানে দেশটিতে বাঙালি অভিবাসির অধিকাংশয় স্টুডেন্ট ও ডিপেনডেন্ট ভিসার উপর নির্ভরশীল। তবে আশার কথা হলো,ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বা দেশটির অন্যান্য ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশি অভিবাসিদের আসার প্রবণতা বর্তমানে বেড়েছে।
প্রিয় পাঠক বন্ধু, অস্ট্রেলিয়াতে আপনি যে ভিসায়-ই আসেন না কেনও, আপনার কোন সকল কাজে দক্ষতা থাকলে সহজেই অধিক অর্থ ইনকাম করতে পারবেন এবং অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী অভিবাসি হতে পারবেন এবার আসুন সে ব্যাপারে কথা বলি।
অস্ট্রেলিয়াতে আসতে এবং সহজ সাবলিল ভাবে অর্থ ইনকাম করতে সর্বপ্রথম প্রয়োজন ভাষা দক্ষতা! অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের তথ্য মতে, দেশটির জাতীয় ভাষা ইংরেজি। আর তাই অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস ও সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার জন্য ইংরেজি ভাষাগত জ্ঞান অবশ্যই প্রয়োজন।
আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় আসতে চান, তাহলে আপনার ইংরেজি ভাষাতে অবশ্যই ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। করতে হবে ভালো আইইএলটিএস স্কোর। এছাড়া আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আসতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনার ৬.৬ আইইএলটিএস স্কোর অর্জন করতে হবে। কোনো বিভাগেই ৬.০ পয়েন্টের নিচে পাওয়া চলবে না।
ভাষা দক্ষতার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াতে কাজের জন্য অন্যানো দক্ষতার সাথে কম্পোলচারি আর ও একটি দক্ষতা আপনার থাকা প্রয়োজন আর সেটি হল-গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা বা ড্রাইভিংয়ে অভিজ্ঞতা সহ ড্রাইভিং লাইসেন্স। অস্ট্রেলিয়াতে একটি বিশেষ সুবিধা হলো অন্যানো দেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়েও গাড়ি চালানো যায়।
আপনি যে কাজের জন্যই অভিজ্ঞ হন না কেনও অর্থাৎ আপনি অস্ট্রেলিয়াতে যে চাকরির জন্য চেষ্টা করবেন, তার প্রায় সব চাকুরীতেই আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। এর একটি বড় কারণ হলো সঠিক টাইমে কর্মস্থলে পৌঁছানো।
আর তাছাড়া অস্ট্রেলিয়াতে গাড়ির দাম খুব একটা বেশি নয়! তিন থেকে পাঁচ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় গাড়ি পাওয়া যায়। আর গাড়ি থাকলে নানা ধরনের খাবার ডেলিভারির কাজ করা যায়। উপার্জনও বেশ ভালো। অনেক অভিবাসীই এখানে অবসর সময়ে নিজের গাড়ি চালিয়ে খাবার ডেলিভারির কাজ করেন। কেউ যদি খাবার ডেলিভারির কাজকে পার্মানেন্ট জব হিসাবে করে থাকে, তাহলে সে চাইলে এক মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অর্থাৎ বাংলা টাকায় প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করতে পারেন।
অর্থাৎ প্রিয় পাঠক, অস্ট্রেলিয়াতে আসতে এবং সহজ সাবলিল ভাবে অর্থ ইনকাম করতে বা স্থায়ী ভাবে দেশটিতে বসবাস করতে, অনন্যা দক্ষতার পাশাপাশি ভাষা দক্ষতা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ ড্রাইভিংয়ে অভিজ্ঞতা থাকা অত্যান্ত জুরুরি। যা দেশটিতে আসার পর আপনার চলার পথ করবে অনেকটাই সহজ।


0 Comments