Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি ভাবে রোমানিয়ার ভিসার!!

রোমানিয়ার ভিসার ধরন, খরচ, মেয়াদ, যাওয়ার মাধ্যম, প্রয়োজনীয় ডুকমেন্টস!

রোমানিয়া এ বছর ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে ভিসা দেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন গত ৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রে তথ্য অনুযায়ী গত বছর রোমানিয়া হতে একটি কনস্যূলার টিম ঢাকায় ৩ মাস অবস্থান করে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ ভিসা প্রদান করে। 


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন


২০২২ সালের রোমানিয়া কনস্যূলারদের ঐ  প্রজেক্টটি সফলভাবে পরিচালিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ার মন্ত্রণালয়কে এ বছর আবারও একটি কনস্যুলার মিশন পরিচালনার জন্যে অনুরোধ করে চিঠি পাঠান। এরপর রোমানিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাতে সাড়া দিয়ে  বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মার্চ মাস অর্থাৎ এই মাস  হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস ঢাকায় একটি কনস্যূলার মিশন পরিচালনায় সম্মত প্রকাশ করে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়


ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় রোমানিয়ার কনস্যুলার মিশন পরিচালনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে এখনো পর্যন্ত রোমানিয়ার কনস্যুলার টিম বাংলাদেশে এসে পৌঁছয়নি কিন্ত আশা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহে দেশটির কনস্যুলার টিম, বাংলাদেশে আসবেন এবং তার অল্প কিছু দিনের মধ্যে ভিসা প্রসেসের কার্যক্রম শুরু করবেন। 


তো এখন চলুন এই নিবন্ধনের মাধ্যমে রোমানিয়ার ভিসার ধরন সম্পর্কে, খরচ কেমন পড়বে ,ভিসার মেয়াদ কত দিন হবে, যাওয়ার মাধ্যম কি এবং প্রয়োজনীয় ডুকমেন্টস কি কি লাগবে সে ব্যাপারে জানি।


প্রিয় পাঠ্যক, বাংলাদেশিদের জন্য সাধারণত রোমানিয়া তিন ধরণের ভিসা দিয়ে থাকে, আর এগুলো হলো-

১/ রোমানিয়া স্টুডেন্ট ভিসা।

২/ রোমানিয়া ভিজিট ভিসা।

৩/ রোমানিয়া ওয়ার্ক ভিসা।




এই নিবন্ধনের প্রথমেই আমরা রোমানিয়া স্টুডেন্ট ভিসা সম্পর্কে জানবো-


রোমানিয়া তে রয়েছে বিশ্ব সেরা নামকরা সব এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট।তাই তো  প্রতি বছরই বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থীরা রোমানিয়া যায়, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে, ডিগ্রি নিতে। এসব শিক্ষার্থীর বেশির ভাগই স্কলারশিপ এর মাধ্যমে দেশটিতে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। 

রোমানিয়া রাজধানী

যাইহোক, দেশটির স্টুডেন্ট ভিসা পেতে শিক্ষার্থীদের, তাদের সকল  এডুকেশনাল সার্টিফিকেট ও স্কলারশিপ এর সকল সঠিক কাগজ পত্র রোমানিয়া ভিসা প্রেসেসিং অফিসে জমা দিয়ে স্টুডেন্ট ভিসাটি প্রস্তুত করতে হয়। রোমানিয়া স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেস করেতে সাধারণত ৯০ দিন থেকে ১২০ দিন এর মধ্যেই কমপ্লিট হয়ে থাকে, তবে পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় এর উপর নির্ভর করে সময় কম বেশি হতে পারে 
 
শিক্ষার্থী গন তাদের সকল প্রকার উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে ডিগ্রি নেওয়া পর্যন্ত রোমানিয়াতে স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে বসবাস করতে পারে। এছাড়াও তারা চাইলে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন পার্ট টাইম চাকুরীও কন্টিনিউ করতে পারেন। 

রোমানিয়া স্টুডেন্ট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

১. ডিজিটাল পাসপোর্ট। ২. পাসপোর্ট সাইজ এর সদ্য তোলা রঙিন ছবি। ৩. রোমানিয়া তে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় এর এপ্লিকেশন ফর্ম। ৪. রোমানিয়া স্টুডেন্ট ভিসার এপ্লিকেশন ফর্ম। ৫. আপনার পছন্দ অনুযায়ী রোমানিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় হতে অফার লেটার। ৬. স্কুল এবং কলেজ এর সকল মেইন সার্টিফিকেট ও পরীক্ষার মার্কশিট।

রোমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
৭. IELTS স্কোর এর সার্টিফিকেট। ৮. নিজস্ব কিংবা পারিবারিক অভিভাবক এর ব্যাংক সলভেন্সির কাগজ পত্র। ৯. শিক্ষার্থীদের সকল প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র গুলো অবশ্যই ইন্টান্যাশনাল ক্র্যেডিশনাল বা সঠিক ভাবে ভেরিফিকাশন করে নিতে হবে। ১০. স্টুডেন্ট এর লিগেল আইডেন্টিটি ডকুমেন্টস। ১১. রিকমেন্ডেশন লেটার অথবা মোটিভেশনাল লেটার। ১২. স্টুডেন্ট এর সিভি এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। ১৩. কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন এর ডোসের ফর্ম। ১৪. আগের স্কুল কলেজ এর সকল সার্টিফিকেট এর মেইন কপি এবং ফটোকপি। অবশ্যই সকল সার্টিফিকেট গুলো শিক্ষাবোর্ড এবং রোমানিয়া অ্যাম্বাসি কর্তৃক সত্যায়িত করে নিতে হবে।

রোমানিয়া স্টুডেন্ট ভিসার খরচ ও মেয়াদঃ

স্টুডেন্ট রা তাদের স্কলারশিপ এর মাধ্যমে ফ্রি তেই রোমানিয়া অবস্থান করতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এর ধরন অনুযায়ী ৭০ ইউরো থেকে ১০০ ইউরো খরচ হয়ে থাকে। বলা চলে, স্টুডেন্ট ভিসায় রোমানিয়া যেতে শিক্ষার্থীদের তেমন বিশেষ কোন খরচ হয় না।

আর স্টুডেন্ট ভিসায় দেশটিতে আপনি ততো দিন থাকতে পারবেন যতদিন বিশ্ববিদ্যালয় কোর্স চলবে। তবে কোর্স শেষে থাকতে চাইলে আপনাকে ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

রোমানিয়া ওয়ার্ক ভিসা-

রোমানিয়ার ওয়ার্ক ভিসা যেই ভিসাটি বাংলাদেশী নাগরিক দের কাছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এই ভিসার মাধ্যমে গত বছরও বৈধ ভাবে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বাংলাদেশী নাগরিক রোমানিয়াতে প্রবাসী হয়েছে। এই বছরও তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৬ মাসে প্রায় ১৫ হাজারের অধিক কর্মী বন্ধুরা দেশটি তে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোমানিয়া তে গিয়ে যে কোন ধরনের এর বৈধ কাজে যুক্ত হতে এই ওয়ার্ক ভিসা অপরিহার্য।


রোমানিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী


যাইহোক, রোমানিয়ার ওয়ার্ক ভিসার সাধারণত মেয়াদ কাল হয়ে থাকে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত। তবে রোমানিয়ার ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ দুই অথবা তিন বছর যেটায় হউক না কেন এটি পর আবার রিনিউ করার মাধ্যমে এর মেয়াদ কাল বাড়ানো যায়। 


আর ওয়ার্ক ভিসার মাধ্যমে রোমানিয়া তে যেতে সর্বপ্রথম ভিসা প্রসেসিং অফিস অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার অনুমদিত বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি অফিসে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সঠিক নথি এবং ফি জমা দিতে হয়। রোমানিয়া যাওয়ার জন্য আপনার ডুকমেন্টস ফাইল টি  জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৯০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এই ওর্য়াক ভিসা প্রসেসিং কমপ্লিট হতে। যা মূলত নির্ভর করে রোমানিয়া কনস্যূলার টিমের কাজের উপর।।  


প্রিয় পাঠ্যক, এবার চলুন জেনে নিই, রোমানিয়া ওয়ার্ক ভিসার জন্য কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন এবং কত টাকা খরচ হবে সে ব্যাপারে।


রোমানিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী


রোমানিয়া ওয়ার্ক ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস গুলো হলো- 


১. ডিজিটাল পাসপোর্ট।

২. পাসপোর্ট সাইজ এর সদ্য তোলা রঙিন ছবি।

৩. জন্ম নিবন্ধন/জাতীয় পরিচয় পত্র।

৪. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।

৫. নাগরিকত্ব সনদপত্র।

৬. স্পনসর কপি।

৭. কোভিড-১৯ এর  ভ্যাকসিন এর ডোসের ফর্ম।


রোমানিয়া যাওয়ার খরচ নির্ভর করে,কোম্পানি, কাজ, ও আরও বেশ কিছু বিষয়ের উপর! সেই অনুযায়ী সময়ের পরিপেক্ষিতে ভিন্ন পরিমানের খরচ হতে পারে। তবে সাধারণত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোমানিয়া ওয়ার্ক ভিসায় দেশটিতে যেতে ৬ লাক্ষ থেকে শুরু করে ১০ লাক্ষ পযর্ন্ত হয়ে থাকে। 


এখন কথা হলো আপনি যাবেন কার মাধ্যমে?? রোমানিয়া যাওয়ার জন্য অবশ্যয় আপনাকে বাংলাদেশ সরকার কতৃক অনুমোদিত বৈধ রিকুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিচিত বা বিশস্ত এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করায় ভালো হবে। এছাড়াও আপনি চাইলে, টিটিসি, জেলা কর্মসংস্থা মন্ত্রণলায়, অথবা বোয়েসেলর সাহায্য নিতে পারেন।। 


রোমানিয়া ভিজিট ভিসা-


রোমানিয়া তে যারা প্রবাস জীবন যাপন করেন তারা চাইলে ভিজিট ভিসার মাধ্যমেই খুব সহজে তাদের ফ্যামিলীর সদস্য দের রোমানিয়া তে নিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া আপনিও চাইলে ভিজিট ভিসা দেশটিতে যেতে পারবেন, তবে অন্যানো দেশের তুলনায় রোমানিয়া ভিজিট ভিসা দেশটিতে নিজের ফ্যামিলী মেম্বার না থাকলে পাওয়া একটু জঠিল হতে পারে।

রোমানিয়া সেরা দর্শনীয় স্থান
যায়হোক, এই ভিসার মেয়াদ কাল হয়ে থাকে ৩০ দিন থেকে ৯০ দিন এর মতো । এই সময় কালের জন্য বৈধ ভাবেই ভিজিট ভিসা নিয়ে রোমানিয়াতে অবস্থান করতে পারবেন। আর যদি ভ্রমণকারীর সকল প্রকার ডকুমেন্টস সমূহ ঠিকঠাক হয়ে থাকে তাহলে এই ভিসা প্রসেসিং হতে ১৫ থেকে ৩০ কার্য দিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

রোমানিয়া ভিজিট ভিসা

রোমানিয়া ভিজিট ভিসার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসঃ

১. পাসপোর্ট।
২. পাসপোর্ট সাইজ এর সদ্য তোলা রঙিন ছবি।
৩. বিয়ের আসল কাবিন নামার কপি।
৪. বাংলাদেশী নাগরিকত্ব সনদপত্র/জন্ম নিবন্ধন।
৫. পরিবারে যেই সদস্য স্পনসর করছে তার আকামার কপি।
৬. কোভিড-১৯ এর  ভ্যাকসিন এর ডোসের ফর্ম।
৮. বিয়ের ছবি এবং সাক্ষি দের প্রমান স্বরূপ সিগনেচার। 

Post a Comment

0 Comments