Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কেমন দেশ আর্মেনিয়া

-চারপাশের বেশ কয়েকটি দেশের চাপে থাকা দেশ আর্মেনিয়া !

বিশ্ব পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এক দেশের নাম আর্মেনিয়া। আয়তনের দিক থেকে এই দেশটি তেমন একটা বড় না হলেও, এর রয়েছে এক গৌর্বউজ্জ্বল  ইতিহাস। প্রকৃতির লীলাভূমিতে আর্মেনিয়ার সৌন্দর্য, তার ইতিহাস ও সাংকৃতিক  ঐতিহ্যের মতোই  সমৃদ্ধশীল।


ককেসাসের বিশাল পর্বতমালার ঠিক দক্ষিণে এবং এশিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের সম্মুখভাগের একটি স্থলবেষ্টিত দেশ আর্মেনিয়া। আর্মেনিয়ার সাথে উত্তরে জর্জিয়া, পূর্বে আজারবাইজান এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও পশ্চিমে এর প্রতিবেশী দুই দেশ যথাক্রমে ইরান এবং তুরস্ক অবস্থান। ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যবর্তী ইউরোশিয়ার এই দেশটির সরকারি নাম রিপাবলিক অফ আর্মেনিয়া। আর্মেনিয়ার রাজধানী ও বৃহত্তম শহরটি হল  ইয়েরেভান। 

তো প্রিয় পাঠক বন্ধু, এই নিবন্ধনের মাধ্যমে আজ আমরা ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভ করা দেশ আর্মেনিয়া সম্পর্কে নানা জানা-অজানা তথ্য গুলো জেনে নিবো।

২৯ হাজার ৭৪৩ বর্গ কি.মি. এই দেশটির প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দে, উরার্তু বা ভান রাজ্যের অংশ হিসেবে। ৪র্থ থেকে ১৯শ শতক পর্যন্ত আর্মেনিয়া বিভিন্ন বড় বড় শক্তিধর রাষ্ট্রের শাসনাধীনে আসে। এদের মধ্যে পারসিক, বাইজেন্টীয়, আরব, মোঙ্গল এবং তুর্কি জাতি উল্লেখযোগ্য। ১৯১৫ সালে সংঘটিত আর্মেনিয় গণহত্যা দেশটির এক উল্লেখযোগ্য কালো অধ্যায়।


১৯১৮ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত ক্ষুদ্র সময়ের জন্য এটি একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্র ছিল। ১৯২০ সালে স্থানীয় সাম্যবাদীরা ক্ষমতায় আসে এবং সোভিয়েত সেনাবাহিনী দেশটি দখল করে। ১৯২২ সালে আর্মেনিয়া আন্তঃককেশীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের অংশে পরিণত হয়। ১৯৩৬ সালে এটি আর্মেনীয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ১৯৯১ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর আর্মেনিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

আর্মেনিয়া রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে কৃষ্ণ সাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের অন্তর্বর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। উত্তর আর্মেনিয়া জুড়ে রয়েছে ক্ষুদ্রতর ককেশাস পর্বতমালা, যেটি সেভান হ্রদ ও আজারবাইজানের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে এবং আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্ত হয়ে ইরানে চলে গেছে। এই পর্বতগুলির কারণে আর্মেনিয়ার দক্ষিণ থেকে উত্তরে ভ্রমণ করা কষ্টকর। আর্মেনিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয় এবং এর ফলে অনেক প্রাণহানি ঘটে।

২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী আর্মেনিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ ৭ শত ৫৬ জন। আর্মেনিয়ার প্রায় ৯৫% অধিবাসী খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। একই সাথে দেশটির রাষ্ট্রধর্ম ও এটি। এছাড়া দেশটিতে স্বল্পসংখ্যক ইহুদি, ইয়াজিদি ও মুসলমানদের বসবাস রয়েছে। দেশটির ৯৮ শতাংশ মানুষের ভাষা আর্মেনীয় তবে এখানকার ৯০ ভাগ লোকেরা আর্মেনীয় ও রুশ ভাষায় সাছন্দে কথা বলতে পারে এবং বর্তমানে দেশটিতে ইংরেজি ভাষার আধিপত্যও বেশ লক্ষণীয়ও।

২০২৩ সালে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার এর তথ্য অনুযায়ী ৪৬ হাজার কর্মরত সৈন্য ও ২ লক্ষ ১০ হাজার রিজাভ সেনা সদস্য সহ দেশটি ১৪৫ টি দেশের মধ্যে ৯৪ তম সামরিক র‍্যাংকিয়ে অবস্থান করছে। 

আর্মেনীয়দের পারিবারিক বন্ধন সাধারণত সুদৃঢ় এবং এর  মাধ্যমে তারা তাদের বিশেষ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। আর্মেনীয় সঙ্গীত ও রান্না অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশগুলির মত। খাবারের মধ্যে দোলমা বা শর্মা এবং পানীয়ের মধ্যে ওয়াইন ও ব্র‌্যান্ডি গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের সময় আর্মেনীয়রা ঐতিহ্যবাহী লোকসঙ্গীত গাইতে পছন্দ করে। বাস্কেটবল, ফুটবল ও টেনিস তাদের জনপ্রিয় খেলা। আন্তর্জাতিক অঙ্গণে আর্মেনীয়রা কুস্তি, মুষ্টিযুদ্ধ, ভারোত্তোলন এবং জিমন্যাস্টিক্‌সে সফল একটি দেশ। এছাড়াও আর্মেনীয়রা অবসর সময়ে দাবা ও ক্যারাম বোর্ড খেলা খেলতেও পছন্দ করে।

আর্মেনীয়ার সেরা দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্য রয়েছে, লেক সেভান, আর্মেনিয়ান হাইল্যান্ডস, মাউন্ট আরারাত, দিলীজান, তাতেভ মঠ, শাকি জলপ্রপাত, গেগার্ড মনাস্ট্রি, ইচমিয়াডজিন ক্যাথেড্রাল, সেন্ট হ্রিপসাইম চার্চ, অষ্টরক, গার্নি এবং ইয়েরেভান ক্যাসকেড, সহ ইয়েরেভান শহরের মাতেনাদারন ও নীল মসজিদ উল্লেখ্যযোগ্য।


দেশটির রাজধানী শহর ইয়েরেভানের কাছেই বাংলাদেশ নামক জনপ্রিয় একটি জনবসতি রয়েছে। তবে শহরের বিলবোর্ডে  ইংরেজি অক্ষরে লেখা "বাংলাদেশ" খুজে পাওয়া যাবে না, সব কিছুই লেখা আর্মেনীয় ভাষায়। ইয়েরেভানের সব থেকে বড় ও জনপ্রিয় বাজারের অবস্থানও বাংলাদেশ নামক ঐ স্থানে। প্রিয় ভিউয়ারস, ইয়েরেভানে  বাংলাদেশ নামক জনপ্রিয় জেলা সম্পর্কে চ্যানেলে অন্য একটি ভিডিও রয়েছে চাইলে দেখতে পারেন লিংক দেওয়া আছে আই বাটনে।

যাইহোক, খ্রিষ্টান ধর্ম অবলম্বীদের জন্য বিশ্বের প্রথম চার্চটি আর্মেনিয়াতেই নির্মিত হয়। হলি ইচমিয়াডজিন ক্যাথেড্রাল চতুর্থ শতাব্দীর প্রথম দিকে পৃথিবীতে নির্মিত প্রথম রাষ্ট্রীয় গির্জা ছিলো। বর্তমানে এই স্থানটি আর্মেনিয়ার সমস্ত গির্জার সদর দপ্তর এবং এটি বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় তীর্থস্থান।

Post a Comment

0 Comments