Header Ads Widget

Responsive Advertisement

দুর্গম দ্বীপের দেশ নাউরু

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্বাধীন প্রজাতন্ত্র নাউরু

পৃথিবতে রয়েছ ছোট  বড় অনেক দ্বীপ, সেই দ্বীপ থেকে কোনটা আবার হয়েছে রাষ্ট্রে পরিনত। তেমনি একটি ছোট দ্বীপ থেকে রাষ্টে পরিনত হয়েছে, এমন একটি দ্বীপ রাষ্টে নাম হলো নাউরু। যেই দ্বীপ রাষ্টটি কিনা বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ।

যরাজীর্ন ভবন,ধ্বংস প্রাপ্ত বন্দর আর শিল্প -কারখানার নিয়ে নাউরু বর্তমানে একটি ধ্বংসস্তুপ। কিন্তু মাত্র কয়েক দশক আগেও এই দেশটি ছিল পৃথিবীর দ্বিতীয় ধনী রাষ্ট্র। জেনে অবাক হবেন এই দেশটি পৃথিবীর একমাত্র দেশ যার নেই কোনো রাজধানী।

তো প্রিয় পাঠক, "IMMITWELVE" এর আজকের আয়জনে রয়েছে পৃথিবীর তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ নাউরু সম্পর্কে জানা-অজানা নানা তথ্য নিয়ে বিশেষ একটি প্রতিবেদন। আশা করছি প্রতিবেদনটির শেষ পর্যন্ত সাথেই থাকছেন।

নাউরু

ভৌগলিক অবস্থানঃ

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের একটি  ডিম্বাকৃতির ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র নাউরু, যা প্রবালপ্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত। দেশটির সরকারি নাম রিপাবলিক অফ নাউরু। এই দেশের সব থেকে নিকটতম দ্বীপটি হল কিরিবাতির বানাবা দ্বীপ যা নাউরু থেকে ৩০০ মাইল পূর্বে অবস্থিত এবং এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি টুভালুর উত্তর-পশ্চিমে, সলোমন দ্বীপপুঞ্জের ১,৩০০ কিমি উত্তর-পূর্বে, পাপুয়া নিউ গিনির পূর্ব-উত্তর-পূর্বে, ফেডারেটেড স্টেটস অফ মাইক্রোনেশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে  এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ ছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্বাধীন প্রজাতন্ত্র, এবং এটিই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যার নেই কোন রাজধানী শহর।  

পৃথিবীর তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ নাউরুর মোট আয়তন মাত্র ২১.৩ বর্গকিলোমিটার যার বর্তমান জনসংখ্যা ১৩ হাজারের কাছাকাছি। এখানকার আদি বাসিন্দারা হল মাইক্রোনেশীয় ও পলিনেশীয় জাতির মানুষ।দ্বীপটিতে প্রচলিত প্রধান ধর্ম হল খ্রীষ্টান ধর্ম এছাড়াও নাউরুর সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। নাউরুয়ান ভাষা এবং ইংরেজি ভাষা নাউরুর সরকারী ভাষা। এখানকার প্রায় অর্ধেক সংখ্যক লোক নাউরুয়ান ভাষাতে কথা বলেন,যা একটি অস্ট্রোনেশীয় ভাষা।

স্বাধীনতাঃ

জার্মানি ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এটিকে দখল করে নেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এটি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ও যুক্তরাজ্যের অধীনে একটি প্রশাসিত এলাকায় পরিণত হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান এটি দখল করে। তবে যুদ্ধের শেষে এটি আবার অধীনস্থ প্রশাসিত এলাকায় পরিণত হয়, এবং সর্বশেষ 1968 সালে গ্রেট ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে এই দেশটি।

অরথনিতিঃ

নাউরু ফসফেট খনিজে সমৃদ্ধ। ১৯০৭ সাল থেকে এখানকার অর্থনীতির প্রধান আয় আসে ফসফেট খনিজ আকরিক আহরণের মাধ্যমে। ফসফেট মূলত ফসলি জমির সার হিসাবে এবং বিস্ফোরক তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিস্ফোরক তৈরীতে এখানকার ফসফেট ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে খনিজ ফসফেট প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, আর এই খনিজ আহরণ করতে গিয়ে পরিবেশগত বিপর্যয়ের সূচনা হয়েছে। একই সাথে বর্তমানে এই খনিজ সম্পদ ফসফেট এর পরিমান একেবারেই কমে আসায় দেশটির হুমকির মুখে।

সে দেশের সরকার অর্থনীতির নতুন উৎস খুজতে গিয়ে বিভিন্ন অপ্রচলিত পদ্ধতির আশ্রয় নেয়। যার মধ্যে অন্যতম, ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে কালো টাকা সাদা করার অনুমতি, যা সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দেই। তবে বর্তমানে দেশটি ২০০১ সাল হতে অস্ট্রেলীয় সরকারের অনুদান গ্রহণ করেছে। আর এর বিনিময়ে নাউরু অস্ট্রেলিয়াতে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের জেল হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

সরকার ও সদস্যঃ

নাউরু রয়েছে একটি সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা। বর্তমানে দেশটির সভাপতি ব্যারিন ওয়াকাকে, যিনি 19-সদস্যের একক সংসদ সদস্যের প্রধান। এই দেশটি  জাতিসংঘ, জাতিসংঘের কমনওয়েলথ,এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের সদস্য। এছাড়াও  2016 সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের 189 তম সদস্য পদ লাভ করে রিপাবলিক অফ নাউরু।

সংস্কৃতি:

ঔপনিবেশিক এবং সমসাময়িক পশ্চিমীয়া সংস্কৃতি বর্তমান পারম্পরিক নাউরুয়ান সংস্কৃতিরতে স্থান পেয়েছে। তবে কিছু পুরনো রীতি-নীতি এখনও লক্ষণীয়, এই যেমন, মাছ ধরার পুরাতন পদ্ধতি,পুরানো সংগীত এছাড়াও প্রতিবছর ২৬ অক্টবার দেশটিতে আংগাম দিবস পালন করা হয়। যা মূলত দুই বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯২০ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী থেকে নাউরুয়ানদের পুনরুদ্ধারের স্মৃতিতে উদযাপিত হয়। 

খেলাধুলাঃ

যদিও অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল এবং ভারোত্তোলনকে নাউরুর রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তবে ভলিবল, নেটবল, টেনিস এবং বিগত কয়েক বছর ধরে রাগবি সেভেন্স খেলার জনপ্রিয়তা দ্বীপটিতে বেড়েছে। এছাড়াও নাউরু কমনওয়েলথ গেমস,গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও পেসিফিক গেমসে অংশগ্রহণকারী দেশ। 

নাউরুর সেরা দর্শনীয় স্থানঃ

পাঠক বন্ধু, নাউরুর সেরা দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে রয়েছে, অ্যানিবেয়ার বে, সেন্ট্রাল প্লাতো, জাপানিজ গানস, মকুয়া ওয়েল ইত্যাদি । তবে এই দেশটিতে বছরে মাত্র কয়েক শতাধিক পর্যটক আসেন। 

নাউরু দেশ সম্পর্কে মজার ও অবাক করা তথ্যঃ

নাউরুর সম্পর্কে মজার কিছু তথ্যের মধ্যে রয়েছে,এই দেশটিতে নেই কোনও সামরিক বাহিনী! আছে মাত্র দুটি মাছ ধরার নৌকা। তবে নেই কোন গণপরিবহন কিন্তু আছে 40 কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মহাসড়কের সাথে মাত্র 4 কিলোমিটারের একটি রেলপথ। এছাড়াও নাউরুর রয়েছে একটি বিমানবন্দর ও দুইটি বিমান।


Post a Comment

0 Comments