বিপুলা এই পৃথিবীতে আমাদের বসবাস, তবে এক বর্গকিলোমিটার এর ও কম আয়তনের দেশ হতে পারে তা আমাদের অনেকের'ই অজানা !!
বর্তমান বিশ্বে ১৯৫ টি স্বাধীন দেশ রয়েছে, যার প্রত্যেকটি দেশেরই রয়েছে নিজস্ব কিছু ব্যতিক্রমী ধর্মী বৈশিষ্ট্য। এসব দেশের কোন একটি হয়তো আঞ্চলিক ভাবে বৃহত্তর আবার হয়তো কোনটি সমগ্র বিশ্বে! আবার কোনটি হয়তো সমগ্র বিশ্বে ক্ষুদ্র অথবা আঞ্চলিক ভাবে। কিংবা কোন একটি দেশের রয়েছে প্রাকৃতিক ভাবে ব্যতিক্রমী ধর্মী বৈশিষ্ট্য। হতে ও পারে এমন ও দেশ আছে যে দেশ কিনা ভোগোলিক ভাবে ব্যতিক্রমী ধর্মী বৈশিষ্ট্য বহন করছে পৃথিবীর বুকে। তবে যাইহোক না কেনো, আমরা সাধারণত সেসব দেশ সম্পর্কেই বেশি জানি, যে সব দেশ আধিপত বিস্তারে অন্যদের থেকে এগিয়ে কিংবা আয়তনে বড় অথবা ভোগোলিক ভাবে ব্যতিক্রমী ধর্মী বা প্রাকৃতিক গুনে গুণবতী।
কিন্তু কোনো দেশের আয়তন যে মাত্র এক বর্গকিলোমিটারের কম অথচ তার রয়েছে পূর্ণাঙ্গ সরকার,সংবিধান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সে কথা আমাদের অনেকেরই অজানা।
প্রিয় পাঠক, এই নিবন্ধনে আমরা জানবো পৃথিবীর বুকে থাকা সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ও স্বাধীন সার্বভৌম ৫টি দেশ সম্পর্কে, যেই দেশ গুলোর সাথে আপনি হয়তো এর আগে কখনো এভাবে পরিচিত হননি।।
পাঠক বন্ধু আপনি হয়তো চিন্তা করছেন, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ৫টি দেশের প্রথম টি হবে ভ্যাটিকান সিটি। যদিও তাই হওয়া উচিৎ ছিলো কিন্তু না। পৃথিবীর বুকে ভ্যাটিকান সিটির থেকে ও ছোট একটি দেশ রয়েছে,আর সে দেশ টি হলো সিল্যান্ড যার সম্পূর্ণ নাম 'প্রিন্সিপ্যালিটি অফ সিল্যান্ড'।
দেশটির অবস্থান ব্রিটিশ সমুদ্র উপকূল থেকে ছয় মাইল উত্তরে বিস্তীর্ণ নীল সমুদ্রের মাঝে। দেশটিতে নেই কোনো ভূখণ্ড বা মাটি । পুরো স্থাপনাটিই একটি কৃত্রিম প্লার্টফর্ম। এটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেন কর্তৃক স্থাপিত একটি সামুদ্রিক দুর্গ। প্রথমদিকে একে ডাকা হতো ‘রাফস টাওয়ার’ নামে। শত্রুপক্ষের বিমানকে প্রতিহত করতে, ইংল্যান্ডের জলসীমায় বসানো হয় এই ‘রাফস টাওয়ার’ যা বর্তমানে সিল্যান্ড নামে পরিচিত।।
তবে সিল্যান্ড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোন রাষ্ট্র নয়। পৃথিবীর কোন দেশেই সিল্যান্ডের স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেয়নি, আবার একই সাথে কেউ এর বিরোধিতাও করেনি। এছাড়া একমাত্র বেটস পরিবার ছাড়া কেউ এই টাওয়ারের মালিকানা দাবি করেনি। তাই অলিখিতভাবে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ। যার আয়তন মাত্র ৫৫০ বর্গমিটার।
সিল্যান্ড সামুদ্রিক দুর্গ থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশের পরিচিতি পাওয়ার পিছনে রয়েছে বড়সড় এক ইতিহাস, তবে সে আলোচনায় না গিয়ে যেহেতু এটি একটি স্বীকৃতি হীন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ তাই এই সিল্যান্ড কে বাদ রেখেই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্বাধীন সার্বভৌম ৫টি দেশের ব্যাপারে জানবো আমরা।
আমরা ছোটবেলাই সাধারণ জ্ঞানের বই কিংবা পাঠ্যবইয়ে ভ্যাটিক্যান সিটির নাম পড়িনি এমন মানুষ হয়তো খুবই কম আছে। তাই বলাই বাহুল্য, তিবের নদীর কূল ঘেঁষে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশে ভ্যাটিকান সিটি। মাত্র ৪৯ হেক্টর বা ০.৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটির জনসংখ্যা আনুমানিক ১০০০ জন! কিন্তু তা সত্ত্বেও, ভ্যাটিকান সিটির গুরুত্ব ও অবদান কোনো অংশে কম নয়। সারা বিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র শহর হিসেবে বিবেচিত ভ্যাটিকান সিটি। শুধু তাই নয়, জগদ্বিখ্যাত শিল্পী মাইকেল এঞ্জেলো এবং লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সঙ্গেও ঐতিহাসিকভাবে জড়িয়ে আছে এই শহর। আর ভ্যাটিকান সিটিতেই যে পোপের অবস্থান, তা তো সকলেরই জানা।
ভ্যাটিকান সিটি ছোট্ট হলেও, এখানে আছে দর্শনীয় স্থান। চাইলেই ঘুরে দেখা যাবে সেন্ট পিটারস ব্যাসিলিকা, সেন্ট পিটারস স্কয়ার, ভ্যাটিকান জাদুঘরের মতো বিখ্যাত জায়গাগুলো।
বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ মোনাকোর আয়তন মাত্র ২ বর্গকিলোমিটার। পশ্চিম ইউরোপের একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ এই দেশের মোট জনসংখ্যা ৩৮ হাজারের এর কাছাকাছি। তিন দিকে ফ্রান্স আর অন্যদিকে ভূমধ্যসাগর এবং ইতালির খুব কাছাকাছি এই দেশটি তে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তিদের বসবাস।
মোনাকোর পূর্ণ এরিয়াটাই যেন একটি পর্যটন কেন্দ্র, যার সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হতে হবেন বাধ্য! বিশেষত, মন্টে কার্লো ক্যাসিনো এবং গ্র্যান্ড পিক্স মোটর রেসিং ইভেন্টের জন্য এই দেশটি বেশি খ্যাত। এছাড়াও মোনাকো ক্যাথেড্রাল, ওশানোগ্রাফি মিউজিয়াম অব মোনাকো এবং মিউজিয়াম অব অ্যান্টিক অটোমোবাইলস ইত্যাদি স্থানও পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।
পৃথিবীর তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ নাউরু।। নাউরুর পূর্ব নাম "প্লেজ্যান্ট আইল্যান্ড, যার আয়তন ২১ বর্গকিলোমিটার। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের একটি ডিম্বাকৃতির আকৃতির ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র এই নাউরু, যা প্রবালপ্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত। দেশটিতে রয়েছে বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের বসবাস। শান্তিপূর্ণ এই দেশটি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও, নজড়কাড়া সৌন্দর্য কিন্তু এখানেও কম নেই। অ্যানিবেয়ার বে, সেন্ট্রাল প্লাতো, জাপানিজ গানস, মকুয়া ওয়েল ইত্যাদি নাউরুর দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম।
ওশেনিয়া মহাদেশের একটি চমৎকার দেশ টুভালু,যেটি বিশ্বের চতুর্থ ক্ষুদ্রতম দেশ হিসাবে বিবেচিত। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার কমনওয়েলথভুক্ত এই দ্বীপ রাষ্ট্রটির রাজধানী ফুনাফুটি। দেশটির আয়তন ২৫ দশমিক ৯ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ১২ হাজারের নিচে। অত্যান্ত দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই দেশটির অবস্থান হওয়ায় এখানে পর্যটকদের আনাগোনা খুবই কমই দেখা যায়। তবে নির্জনে যারা অ্যাডভেঞ্চার রয়েছেন তাদের আনাগোনা নিহাত কম নয়। ফুনাফুটি মেরিন কনজারভেশন এরিয়া, টুভালু ফিলাটেলিক ব্যুরো ইত্যাদি এই দেশটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।
পুরোপুরি ইতালি দ্বারা বেষ্টিত ইউরোপ মহাদেশের একটি রাষ্ট্র সান মারিনো। যা পৃথিবীর বুকে থাকা ১৯৫ টি দেশের মধ্যে ৫ম ক্ষুদ্রতম দেশ। সান মারিনোর আয়তন মাত্র ৬১.২ বর্গকিলোমিটার,যার বুকে আনুমানিক ৩৩ হাজার লোকের বসবাস।
শিল্প-বাণিজ্য, সামাজিক সেবা ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সান মারিনোর অর্থনীতি। সমুদ্রের তীরবর্তী সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত দুর্গগুলো সান মারিনোকে 'জাদুর শহরে' রূপ দিয়েছে। সান মারিনোর অন্যানো পর্যটন গন্তব্যের মধ্যে স্থান পাই গুয়াইতা টাওয়ার, পিয়াজ্জা দেল্লা লিবার্তা, মাউন্ট টিটান পালাজ্জো পাবলিকো ইত্যাদি।






0 Comments