Header Ads Widget

Responsive Advertisement

অস্ট্রেলিয়া রেকর্ড সংখ্যক জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা

 ৬ লক্ষ ৫০ হাজার অভিবাসী  পাবেন PR

অস্ট্রেলিয়াতে আগামী দুই বছরে আকস্মিক ভাবে ৯ লক্ষ স্থায়ী অভিবাসী বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস । দেশটির সরকারি গবেষণা বলছে আগামী 2025 সালের জুন পর্যন্ত দেশের মোট অভিবাসী জনসংখ্যা 9 লক্ষ জনে বেড়ে যাবে। আর এতে করে দেশটির বড় ধরণের সমস্যাও রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা ।


অস্ট্রেলিয়াতে বর্তমান চলমান মাইগ্রেশন গতি ও দেশটিতে স্থায়িত্বর উপর ভিত্তি করে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের পূর্বাভাস অনুসারে আকস্মিক ভাবে আগামী 2025 সালের জুনের শেষ নাগাদ সে দেশের মোট জনসংখ্যায় 900,000 জন বেড়ে যাবে।


আবাসনের প্রাপ্যতা এবং যানজট সহ ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ানরা,  জনসংখ্যা-সম্পর্কিত সমস্যাগুলির মোকাবেলা করছে।


এর মধ্য দেশটির বর্তমান জন্ম হারের পাশাপাশি, আগামী দুই অর্থ বছরে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার অভিবাসী কে অস্ট্রেলিয়া স্বাগত জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এতে করে আগামী দুই অর্থ বছরে প্রায় এক মিলিয়ন অভিবাসী অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক বলছেন যে, তাতে বড় ধরণের সমস্যাও রয়েছে।


মূলত এই পরিসংখ্যান টি দেশটির ট্রেজারি অধিকারিকদের ফিসকাল স্টেটমেন্টের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের সাথে সামঞ্জস্য করার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কারণ অস্ট্রেলিয়ান রিপোর্ট বলছে, আলবেনিজ সরকার আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ফেডারেল বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে!

আকস্মিক অভিবাসন বৃদ্ধি হার ও প্রবাহ

দ্য ডেমোগ্রাফিক্স গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং গবেষণা পরিচালক সাইমন কুয়েস্টেনমাচার বলেছেন, আসন্ন জনসংখ্যা বৃদ্ধি হবে 2008 সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া জাতির দেখা সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যা "বিগ অস্ট্রেলিয়া" নামেও পরিচিত পাবে।



সংবাদ মাধ্যম কে সাইমন আরো বলেন "মার্চ 2008 ছিল একটি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা গ্রহণ যা আমরা গত বছররে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেখেছি এবং যেটি আমরা ভালোভাবে অতিক্রমও  করেছি। 


অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস ABS এর তথ্যনুযায়ী 2008 থেকে 2009 অর্থ বছরের দেশটি অতিরিক্ত 4 লক্ষ 56 হাজার 7 শ জন অভিবাসীকে স্থায়ী ভাবে স্বাগত জানায়, যা গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হারের চেয়ে 2.1 শতাংশ বেশি ছিল৷  


একই সাথে ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস বলছে, 2022-2023 অর্থ বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসীর সংখ্যা1 লক্ষ 6 হাজার যা আগামী 24 মাসে দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 


বিশ্লেষকদের মতামত


লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির কমিউনিটি প্ল্যানিং এবং ডেভেলপমেন্ট লেকচারার, কিরণ শিন্ডে



বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া যদিও অভিবাসীদের গ্রহণের জন্য বিখ্যাত তবে, সর্বশেষ পরিসংখ্যান অস্ট্রেলিয়ানদের কিছু চিন্তা কারণ হতে পারে, কেননা  যে দেশটি ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার, পশ্চিম সিডনি-ভিত্তিক ফেয়ারফিল্ডের মেয়র ফ্র্যাঙ্ক কার্বোন  বলেন যে শহরের পশ্চিমাংশ  জনসংখ্যায় "পরিপূর্ণ" এবং দেশের বাকি অংশও একই পরিণতির মুখোমুখি।


তিনি বলেন "আমরা দুই বছরের মধ্যে 9 লক্ষ লোক কে স্বাগত জানাতে পারি না, কেননা দেশে এত লোকের থাকার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন প্রস্তুত নেই। 


অপর দিকে, সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের মতামত জানতে চাইলে, লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির কমিউনিটি প্ল্যানিং এবং ডেভেলপমেন্ট লেকচারার, কিরণ শিন্ডে বলেন, নতুন আগতরা কোথায় যাচ্ছে তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণ ঐ লেকচারার বলেন যে বেশিরভাগ অভিবাসীরা উন্নত শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য তাদের নিজ দেশ যেমন- বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভারত এবং চীন ছেড়ে আসেন। তবে তারা যেহেতু অস্ট্রেলিয়ার ভৌগোলিক জ্ঞানের খুব বেশি বিকাশত নয়, তাই বেশিরভাগ অভিবাসীরা এমন এলাকায় বসবাস করতে পছন্দ করে যেখানে কিনা তাদের জন্য কমিউনিটি সুবিধা রয়েছে এবং তাদের কাজের বা অধ্যয়নের জায়গার কাছাকাছি হয়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ীও শিন্দে নামক এক নাগরিক বলছে এটি আরো বিপদ জনক যে, যত বেশি অভিবাসী শহরগুলিতে আসবেন , তত বেশি এই অঞ্চলে আবাসন ও আবাসন ভাড়া বাড়বে, যা কিছু লোককে শহরতলিতে নিয়ে যাবে। শিন্ডে আরও ব্যাখ্যা করেন যে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্মের অভিবাসীরা জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে যোগ হবে কারণ তারা বিয়ে করবে - হয় একজন অস্ট্রেলিয়ান বা বিদেশী কেউ, যারা পরে অভিবাসী হবে - এবং তারপরে তাদের নিজের সন্তান হবে। "এটি একটি জীবন চক্র। আমাদের শুধু অভিবাসীদের থেকে অভিবাসন নয়, অভিবাসী পরিবার এবং অভিবাসী জীবনচক্র সম্পর্কেও ভাবতে হবে।


অভিবাসীরা কেন অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নিচ্ছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ,

জনসংখ্যাবিদ সাইমন কুয়েস্টেনমাচার বলেছেন যে অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্থান এবং গণতন্ত্রের

মতো সমস্ত সুযোগ  থাকায় এর মূল কারণে। তিনি বলেন "আমাদের কাছে অভিবাসীদের

প্রবেশ করার জন্য একটি প্রণোদনা রয়েছে এবং তার আসতে চায়,"


অস্ট্রেলিয়া কি আকস্মিক ভাবে বেড়ে যাওয়া ৯ লক্ষ অভিবাসীর  চাপ সামলাতে সক্ষম হবে??

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে কিপেন বলেছেন, “আবাসন ক্রয়ক্ষমতা এবং প্রাপ্যতা

অস্ট্রেলিয়ায় বহুবর্ষজীবী সমস্যা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এবং গড় পরিবারের আকার

ছোট হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমাদের আবাসন সরবরাহে যথেষ্ট বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে ।


Australian immigrant graph

তিনি বলেন ভাড়া শূন্যতা ও আবাসনের প্রাপ্যতা এবং যানজট সহ ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ানরা,

জনসংখ্যা-সম্পর্কিত সমস্যাগুলির মোকাবেলা করছে।  


সুতরাং, সন্দেহ নেই যে অস্ট্রেলিয়ার অবকাঠামো এবং সিস্টেমে অতিরিক্ত 9 লক্ষ লোক

পরিচালনা করতে যা লাগে তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করবে। 


শিন্ডে এবং সাইমন বলেন যে আবাসন খাতই হবে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রধান সমস্যা

যা চাহিদার তুলনায় সরবরাহের  ক্ষেত্রে চাপ বেড়ে ভয়াবহঃ রূপ নিতে পারে।

এবং  এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পদ্ধতিগতভাবে বেশ কিছু পরিবর্তন ও ঘটতে পারে।


অন্নদিকে শিন্ডে বলেন যে, যদিও সংখ্যাগুলি ভয়ঙ্কর বলে মনে হচ্ছে, তবে  অস্ট্রেলিয়ানরা

কোনও বাস্তব কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ে আতঙ্কিত নয়। তিনি বলেন “এই

পুরো সংখ্যাটায় রাজনৈতিক ভাবে জড়িত। 


অপরদিকে লা ট্রোব একাডেমিক বলছে, ভিসা প্রক্রিয়া করতে সময় লাগে, মানুষ তাদের মন

পরিবর্তন করে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দেখা দেয় যা অভিবাসীর গতিপথ পরিবর্তন করতে

পারে।


"অনেক গুণগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা আছে যা এই সংখ্যার বাইরে ঘটে এবং লোকেরা

সংখ্যার মতো কাজ করে না … প্রত্যেকেরই তাদের নিজস্ব স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।"


একই সাথে কিপেন যোগ করেন যে 2019 থেকে 2024 সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী জনসংখ্যা

বৃদ্ধি মহামারীর কারণে অনুমান করা থেকে কম হতে পারে।"সুতরাং বর্তমান উচ্চ অভিবাসন

একটি অস্থায়ী ব্লিপ হতে পারে," ।


সবশেষে  তিনজন বিশেষজ্ঞই একমত যে এই সংবাদটি একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ

করবে, যা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে অস্ট্রেলিয়ার অবকাঠামো এবং সিস্টেমগুলিকে

উন্নত করতে সাহায্য করবে।



Post a Comment

0 Comments